বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় সংঘটিত দুই হত্যা মামলায় আনিসুল হকসহ তিন শীর্ষ আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার চেষ্টা তীব্র সমালোচনা ও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আরিফ গোপনীয়তা বজায় রেখে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের চেষ্টা করেন, যা ধরা পড়ার পর তাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, জাহাঙ্গীর নিজেকে নিউমার্কেট থানার পরিদর্শক হিসেবে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিলের চেষ্টা করলেও তার পরিচয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। তার এই তৎপরতায় সংশ্লিষ্ট একজন নারী কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
বিএনপি এবং পুলিশের একটি অংশ এ ঘটনাকে স্বৈরাচারের দোসরদের ষড়যন্ত্র হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। বিএনপির নেতারা বলছেন, কারাগারের ভেতর ও বাইরে থেকে এসব ষড়যন্ত্র করে যাওয়া পুরনো চক্রের বিষদাঁত ভাঙার সময় এসেছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এই দুই হত্যা মামলায় আনিসুল হক, সালমান এফ রহমান এবং মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানকে অব্যাহতি দিয়ে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পেছনে প্রশাসনের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা স্বার্থান্বেষী চক্র সক্রিয় ছিল।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক জানান, জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত নতুন কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এবং অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল সরকারের ওপর চাপ দিয়ে বলেন, এই ষড়যন্ত্র উন্মোচনে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
এই ঘটনা প্রশাসনে দুর্নীতি ও অদৃশ্য চক্রের অস্তিত্বের বিষয়টি পুনরায় সামনে এনেছে।
0 মন্তব্যসমূহ